মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে, এধরনের আরও পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছেন বাইডেন

কিউবাকে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাস্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিউবার আমেরিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চাপ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

কিউবার পুলিশ বাহিনীর বিক্ষোভে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য ওয়াশিংটন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এই আলোচনা হয়।

নিষেধাজ্ঞার দ্বারা কাকে টার্গেট করা হয়েছিল?
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জাতীয় বিপ্লবী পুলিশ এবং তার দুই নেতা অস্কার কালেজাস ভালকার্স এবং এডি সিয়েরা আরিয়াসের বিরুদ্ধে নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

বিভাগটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া হাজার হাজার লোকের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের জবাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।”

১১ জুলাই থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে শত শত কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

বাইডেন যা বলেছিলেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, আরো নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি চলছে “যদি না কিউবায় ব্যপক কিছু পরিবর্তন না আসে, যা আমি আশা করছি না।”

শুক্রবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে কিউবান-আমেরিকান নেতাকর্মীদের সাথে তার বৈঠকের পর বাইডেনের এই মন্তব্য করলেন।

যারা বাইডেনের সাথে দেখা করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন কিউবার হিপ-হপ গায়ক ইয়োটুয়েল রোমেরো এবং তার ওরিশাস ব্যান্ড। রোমেরো “প্যাট্রিয়া ওয়াই ভিডা” গানটি লিখেছেন যার অর্থ “হোমল্যান্ড এবং লাইফ” এবং যা প্রতিবাদের সংগীত হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আনা সোফিয়া পেলেজ, যিনি মিয়ামি ফ্রিডম প্রজেক্ট শুরু করেছিলেন এবং মিয়ামির সাবেক মেয়র ম্যানি ডিয়াজও হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে কেন এগোচ্ছে?

গত সপ্তাহে, বাইডেন প্রশাসন কিউবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একটি বিশেষ বাহিনীর ইউনিটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

ট্রেজারির নিষেধাজ্ঞা ইউনিটের প্রধান পরিচালক আন্দ্রেয়া গ্যাকি বলেন, “ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তাদের নাম জানাবে যারা কিউবার শাসনতন্ত্রে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত রয়েছে।”



প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন যখন তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দ্বীপটিতে তার অবস্থান শিথিল করেছিলেন এবং দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা নীতির পর্যালোচনা করে বাইডেন ওবামার পদ্ধতি অনুসরণ করবেন বলে আশা করা হয়েছিল।

কিন্তু ফ্লোরিডায় ১.৫ মিলিয়ন প্রভাবশালী কিউবান-আমেরিকান সম্প্রদায় গত নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে জোরালোভাবে ভোট দিয়েছিল, বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে বাইডেন পরবর্তী নির্বাচনে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

এর চেয়ে বেশি আর কি করা যায়?

কিউবান-আমেরিকান কমিউনিটি বাইডেনকে নজরের বাইরে প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা গণ-বিক্ষোভকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

কিউবার কর্তৃপক্ষ ১১ জুলাই কিছু সময়ের জন্য এটি বন্ধ করে দেওয়ার পর তারা বাইডেনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংজোগ পুনরায় পাবার কোন উপায় খুঁজে পেতে চায়।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি সান্টিস ইন্টারনেট বেলুনের কথা বলেছেন, যেমন গুগল যেসব পরীক্ষা -নিরীক্ষা করছিল, সেগুলি দ্বীপের উপরে উড়ানোর জন্য।

কিউবার করমুক্ত হওয়ার জন্য দ্বীপে অর্থ পাঠানোর আহ্বানও করা রয়েছে।

কোন কারণগুলি বিক্ষোভের কারণ হয়েছে?

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব বিক্ষোভকে জোরালো করার অনেকগূলো কারণের মধ্যে একটি। কিউবার সাংবাদিক মনিকা রিভেরো ক্যাবেরা ১১ জুলাই অশান্তি শুরু হওয়ার পর ডিডব্লিউকে বলেন, “আমি বলব এই আন্দোলন খাদ্য সংকট, সমালোচকদের প্রতি সহনশীলতার অভাব এবং গণতন্ত্র নিয়ে।”



ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ল্যাটিন আমেরিকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক উইলিয়াম লিওগ্রান্ড বলেন, নিষেধাজ্ঞা অশান্তিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। “সমস্যা হল যে সরকারের কাছে খাদ্য, ওষুধ বা জ্বালানি আমদানি করার জন্য কোন বৈদেশিক মুদ্রা নেই, তাই দোকানে সমস্ত মৌলিক পণ্যের ঘাটতি রয়েছে।

“বিদ্যুতের ব্ল্যাকআউট রয়েছে যা কিউবানদেরকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯০ এর সবচেয়ে খারাপ সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।”