বিশ্বের এক হাজারেরও বেশি নদীতে প্রবাহিত হয়ে মহাসাগরে যাচ্ছে প্লাস্টিকের বর্জ্য !

বিশ্বের এক হাজারেরও বেশি নদীতে প্রবাহিত হয়ে মহাসাগরে যাচ্ছে প্লাস্টিকের বর্জ্য !

মহাসাগরে যাচ্ছে প্লাস্টিকের বর্জ্য

বিজ্ঞানীরা সর্বাধিক প্রায় ২০ টি নদী প্লাস্টিক সমুদ্রগুলিতে বহন করে নিয়ে যেত বলে মনে করতেন তবে এখন তারা জানেন যে এর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি,যা সম্ভাব্য সমাধানগুলিকে আর জটিল করে তুলেছে।

প্লাস্টিকের বর্জ্য মহাসাগরে প্রবাহিত হওয়া বাধা দেয়ার প্রচেস্টা আরও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছ। সমুদ্রগুলিতে প্লাস্টিকের বর্জ্য যাবার প্রধান উৎস হচ্ছে নদী। ২০১৭ সালে, বিজ্ঞানীদের দুটি পৃথক গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে সমুদ্রে প্রবাহিত নদীবাহিত প্লাস্টিক বর্জ্যের ৯০শতাংশ পৃথিবীর তিনটি দীর্ঘতম নদী নীল নদ, অ্যামাজন এবং ইয়াংজি সহ কয়েকটি বড় মহাদেশীয় নদী দিয়ে পৌঁছে।

এক গবেষণায় ১০ টি নদীর কথা বলা হয় এবং অন্য আরেকটি গবেষণায় ২০ টি নদী পরিস্কার করলে মহাসাগরে প্লাস্টিকের বর্জ্য সমস্যার সমাধান অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে গবেষকরা একমত হন।

নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে ৮০ শতাংশ প্লাস্টিকের বর্জ্য কেবল ১০টি বা ২০ টি নয়,বরং এক হাজারেরও বেশি নদী দ্বারা সমুদ্রে পরিবাহিত হয়। তারা আরও জানতে পেরেছেন যে বড় নদীগুলো নয়,বরং এই বর্জ্যগুলোর বেশিরভাগই ছোট ছোট নদীগুলো বহন করে যা বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ শহুরগুলোতে প্রবাহিত হয়। যার ফলে ইয়াংটিজ, যা চীন জুড়ে ৩৯১৫ মাইল পথ পেরিয়ে পূর্ব চীন সাগরে প্রবেশ করে এবং যেটি প্লাস্টিক দ্বারা সবচেয়ে দূষিত বলে গন্য করা হতো,তা ফিলিপাইনের ১৬ মাইল দীর্ঘ প্যাসিগ নদী দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে যা ১৪ মিলিয়ন মানূষের থাকার জায়গা, রাজধানী শহর মণিলা দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তবে এই আবিস্কার প্লাস্টিকের বর্জ্য সমস্যাটি বোঝার এবং সমাধানের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেছে। গবেষণাটি প্লাস্টিকের বর্জ্য আক্ষরিকভাবে গ্রহের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে অনেক বেশি যৌক্তিক জটিল এবং ব্যয়বহুল সমাধানের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে। সমুদ্র বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘকাল ধরে যে যুক্তি দেখিয়েছিলেন তা এই গবেষণায় আরও জোরদার করা হয়েছে: মহাসাগর এবং মিঠা পানি রক্ষার চূড়ান্ত সমাধান হ’ল জমিতে প্লাস্টিকের বর্জ্য রয়েছে তা এর উৎপত্তি স্থলেই আটকে রাখা।

মানুষ সভ্যতার শুরু থেকেই নদীগুলিকে বর্জ্য দূরে ফেলার জন্য ব্যবহার করে আসছে। গত দশকে প্লাস্টিকের বর্জ্য ইস্যুটি অনেক আলোড়ন তুলেছিল। বেশিরভাগ গবেষণাই ছিল সমুদ্রের প্লাস্টিকের উপর সীমাবদ্ধ। গবেষনায় নদী এবং অন্যান্য মিঠা পানির উৎস পিছিয়ে ছিল।

প্রথমে ভারতের গঙ্গা নদীর প্লাস্টিকের বর্জ্যের ব্যপারটি মূল্যায়ন করা হয় যা মাত্র ১৮ মাস আগে শেষ হয়েছে। শহরগুলির ১০০ মেয়র সহায়তা প্রদানের ফলে গত মাসে পানির উৎসগুলোতে প্লাস্টিকের বর্জ্য হ্রাস করার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে মিসিসিপি নদীতেও একইরকম সমীক্ষা শুরু হয়েছে। জাপান গঙ্গা ও মেকং উভয়ই নদীতেই প্লাস্টিকের বর্জ্য ট্র্যাক করার জন্য একটি সমীক্ষা চালাচ্ছে।

নতুন মডেলিংয়ের উপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়েছিল এবং উভয়ই ২০১৭ সালের নদীর উপর চালানো গবেষনার সাথে জড়িত একই বিজ্ঞানীদের বেশিরভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। তারা বলছেন যে চার বছর আগে প্রাপ্ত ডেটা সীমিত ছিল এবং এটি নদীর অববাহিকা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের উপর গভীর সীমাবদ্ধ ছিল। সব মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন গবেষণার জন্য ১৬৫৬টি নদীর প্লাস্টিকের বর্জ্য বিশ্লেষণ করেছেন।

“কয়েক বছর আগে গবেষনার সাথে একটি বড় পার্থক্য হ’ল আমরা নদীগুলিকে কেবল প্লাস্টিকের পরিবাহক বেল্ট হিসেবে বিবেচনা করি না,” বলেন লরেন্স জে জে মাইজার, গবেষনাটির প্রধান লেখক। যদি আপনি নদী মুখ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নদীতে প্লাস্টিক রেখে দেন, তার অর্থ এই নয় যে এই প্লাস্টিক সমুদ্রের গিয়ে পড়বে।

যত দূরে প্লাস্টিকের বর্জ্যকে নদী দিয়ে ভ্রমণ করতে হবে, সমুদ্রে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তত কমে যাবে। ফ্রান্সের সিন নদীতে, উদাহরণস্বরূপ,১৯৭০ এর দশকের লেবেলযুক্ত প্লাস্টিকের পানির বোতলগুলি নদীর তীরে চলে এসেছে।

মাইজার আরও বলেন, একটি অবাক করা বিষয় হ’ল ইন্দোনেশিয়া এবং ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের দ্বীপগুলোর মতো গ্রীষ্মমন্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জের ছোট ছোট নদীগুলি অভাবনীয় মাত্রায় প্লাস্টিকের বর্জ্য বহন করে। একইভাবে, মালয়েশিয়া এবং মধ্য আমেরিকার নদীগুলি যেগুলি মোটামুটি ছোট দৈর্ঘ্যের, অধিক পরিমানে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবহন করে থাকে।

গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের নদীগুলি সমুদ্রে অবিরাম প্লাস্টিকের বর্জ্য বহন করে নিয়ে যায়। ২০১৭ সালের স্টাডিতে দেখানো হয়েছিল সমুদ্রগুলিতে প্লাস্টিক পরিবহণকারী নদীর বেশিরভাগই এশিয়াতে অবস্থিত। নতুন তালিকার প্রথম ৫০ টি নদীর মধ্যে ৪৪ টি রয়েছে এশিয়াতে।