ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীর নৃশংস যুদ্ধাপরাধ

যদি পুরো জাতির উপর আবছা সাধারণ মন্তব্য করি, তাহলে সবচেয়ে ভদ্র-নম্র বিনয়ী জাতির তালিকাতে জাপানের নাম প্রথমেই চলে আসবে। তবে সাধারণীকরণ করে মন্তব্য করার কোন মানে নেই যেহেতু প্রতিটি মানুষই ভিন্ন, কাল অবস্থার মাপকাঠিতে। তবুও বলছি আলোচনার স্বার্থে। এটিই মানতেই হবে যে জাপানিরা তাদের বিনয়ী ব্যাবহার, আচার-আচরণ, ভদ্রতার জন্য উল্লেখিত। এই জাপানি জাতির রয়েছে ভয়ংকর অতীত যদিও সততা-ভদ্রতার বর্তমান ছাপিয়ে রেখেছে এই অতীতকে।

যুদ্ধাপরাধ শব্দটি যখন আলোচনার বিষয়বস্তু হয় তখন চলে আসে ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীর নৃশংস যুদ্ধাপরাধ। জাপানি বাহিনী দেখিয়েছিলো দ্বিতীয় চীন-জাপান কিংবা বিশ্ব যুদ্ধে তাদের নিজেদের তৈরি বিভীষিকা। তৈরি করেছিলো কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প যেখানে চীনাদের উপর করা হতো এক্সপেরিমেন্ট। কেউ কেউ মনে করেন, জাপানি বাহিনীর অত্যাচার ছিল নাৎসি বাহিনীর চেয়েও ভয়ংকর।

ইতিহাসের পাতা থেকে জাপানি বাহিনীর ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো থেকে ঘুরে আসা যাক।

নানকিং গণহত্যা

যদিও আলোচনা জুড়ে থাকবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের টাইমলাইন। তবে নানকিং গণহত্যা  দিয়েই শুরু করতে হচ্ছে জাপানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কাহিনী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই বছর আগের ঘটনা। তখন দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ চলছিলো। চীনের শহর সাংহাইতে রক্তাক্ত যুদ্ধের পর বিজয়ী হয় জাপান। এইবার তাদের নজরে ছিলো চীনের আরেক শহর নানকিং।

দিনটি ছিলো ১৯৩৭ সালের ১৩ই ডিসেম্বর। ১৩ই ডিসেম্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনা সাক্ষী করে রেখেছিলো চীনের তৎকালীন রাজধানী নানকিংকে, সেখানে থাকা প্রত্যেকটি মানুষের নিঃশ্বাসকে! ঠিক এই দিনেই শুরু হয় গণহত্যা। শুরু হয় লাশের পর লাশ স্তূপ করে রাখার প্রস্তুতি। জাপানের রাজকীয় সেনাবাহিনীর আরেকটি গণহত্যার রোপণ করা কালো অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ হয় এই নানকিং, এক সময়ের উন্নত চীনা শহর। চল্লিশ হাজার থেকে তিন লক্ষ চীনা জনগণকে হত্যা করা হয়।

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চলে ধর্ষণ। হাজার হাজার চীনা নারী ধর্ষিত হয়। বাদ যায় নি বারো বছরের কিশোরীও। ধর্ষণ করার পর, জাপানি সৈন্যরা বেয়োনেট দিয়ে গুতিয়ে দেখত। কোন কোন সৈন্যরা গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভ থেকে বাচ্চা বের করে দুই তিন ভাগ করত। উপরে ছুড়ে মারা হতো, মাঝে মাঝে সিদ্ধ করা হতো ফুটন্ত গরম পানিতে।
প্রতিযোগিতা চলতো ধর্ষণের। গণধর্ষণও বাদ যেতো না। এমনকি বাবাকে বাধ্য করা হতো তার নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করবার জন্য, সন্তানকে তার মাকে। এটি ছিল ১৯ শতকের নরক।

চিত্রঃ নানকিং হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিস্মারক হল, Attribution: “Nanjing Massacre Memorial Hall” by kevin dooley is licensed under CC BY 2.0

জীবন্ত চীনা নাগরিকদের মাটিতে পুঁতে রাখা হতো। জার্মান শেপার্ড দিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা হতো শরীরের অঙ্গ। বরফে হাঠতে বাধ্য করা হতো। হত্যা করতে করতে বিরক্তির চরম পর্যায় থেকে হয়তো নতুন উপায়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পথ আবিষ্কারে মগ্ন ছিল সেই রক্তপিপাসু জাপানি সৈন্যরা।

৬ সপ্তাহ যাবত চলছিলো এই হত্যার খেলা। পৈশাচিক আনন্দে মত্ত জাপানি সৈন্যদের খেলার পাত্রে পরিনিত হয়েছিল নানকিংবাসীরা। মারা গিয়েছিলো প্রায় ৩০০,০০০। তবে যারা টিকতে পেরেছিল, তাদের জীবনসঙ্গী হয়েছিলো ট্রমা।
ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, এই পাপাচার, হত্যাযজ্ঞের যথার্থ কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। আর ইতিহাস কৌতূহল জাগায় যে মানুষ কতটা ভয়ংকর হতে পারে!

ইউনিট ৭৩১

জাপানিদের নৃশংসতার ধারণা পেতে চাইলে ইউনিট ৭৩১ নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরপূর্ব চীনে ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীর অমানবিক এক্সপেরিমেন্ট একটি জিনিস সামনে নিয়ে আসে মানুষ কতটা ভয়ংকর হতে পারে কিংবা নৃশংসতার সীমা কী হতে পারে। জাপানি বাহিনীর পাপাচারের একটি বড় অংশ হচ্ছে এই এক্সপেরিমেন্ট যা ইউনিট ৭৩১ দ্বারা রচিত হয়েছিলো ।

এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিলো ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। তার মানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের অংশগ্রহণের আগ থেকেই জাপান করে আসছিলো এই নৃশংসতা। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইশি শিরোর মাধ্যমে শুরু হওয়া এক্সপেরিমেন্ট গঠিত হয়েছিলো ৩০০০ হাজার গবেষকে। জাপান সেই সময় কষছিল কীভাবে হাতের মুঠোয় নেয়া যায় পুরো বিশ্বের ক্ষমতা। আর সেই আশার বীজ বপন করতে সাহায্য করেছিলেন ইশি শিরো।

হ্যাঁ, ইশি শিরো তখন চিন্তা করেছিলো জৈবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে। এই অস্ত্র তৈরির জন্য এক্সপেরিমেন্টে ব্যাবহার করা হয় তাদেরকেই,  যাদের জীবনের মূল্য জাপানি বাহিনীর কাছে ছিলো গিনিপিগের মতই।

 

চিত্রঃ ইউনিট ৭৩১ এর হারবিন বায়োউইপন ফ্যাসিলিটি , Attribution: “File:Building on the site of the Harbin bioweapon facility of Unit 731 関東軍防疫給水部本部731部隊(石井部隊)日軍第731部隊旧址 PB121201.JPG” by 松岡明芳 is licensed under CC BY-SA 3.0

এক্সপেরিমেন্টের সাবজেক্ট করা হয়েছিলো যুদ্ধবন্দীদের, চীনা জনগণদের। গনোরিয়া , সিফিলিস, অ্যানথ্রাক্স রোগের জীবাণু প্রবেশ করানো হয়েছিলো। মহিলাদের ধর্ষণ করার পর তাদের পেটে থাকা ভ্রূণ এক্সপেরিমেন্ট করার কাজে ব্যাবহার হয়েছিলো । আরেকটি ভয়ংকর ব্যাপার ছিলো, জাপানি বাহিনীদের এই এক্সপেরিমেন্টে, এনেস্থেশিয়ার ব্যাবহার ছাড়াই চলতো সব বয়সী মানুষের উপর জীবচ্ছেদ পক্রিয়া।

ম্যানিলা গণহত্যা

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনী নিসংসতার নজির স্থাপন করে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলাতে। প্রায় ১০০,০০০ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেখানে থাকা সাধারণ জনগণের ধনসম্পদ লুট, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলো জাপানি বাহিনীরা। বেওনিটিং, গুলি আর বোমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো নিরস্ত্র নাগরিকদের। গ্রেনেড হামলার পর বেঁচে যাওয়া আহতদের জীবন্ত পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছিলো ম্যানিলাতে।

নানকিং এ হওয়া গণধর্ষণ এর মতো ম্যানিলাতেও ঘটেছিলো একইরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ওই সময়ে ম্যানিলার বেভিউ হোটেলকে বলা হতো ম্যানিলার ধর্ষণকেন্দ্র। জাপানি বাহিনীরা এই হোটেলকে বানিয়ে ফেলেছিলো তাদের পতিতালয়।
ম্যানিলার এরমিটা নামের একটি এলাকা থেকে জনগনদের বাধ্য করা হয় তাদের বাড়ীঘর ত্যাগ করতে। এর পর তাদেরকে নেয়া হয় প্লাজা ফারগুসন নামের একটি প্লাজাতে যেখানে ফিলিপিনো স্ত্রী, যুবতী, আর বাচ্চাদের আলাদা করা হয়। তারপরে নিয়ে যাওয়া হয় বেভিউ হোটেলে। তারপরে চলে ধর্ষণ।

Attribution: “Manila City Hall, Manila, Philippines, 1945” by J. Tewell is licensed under CC BY-NC 2.0

ইয়ামাশিতা যুদ্ধাপরাধের বিচারের সাক্ষ্যে বলা হয়েছিলো, ৪০০ জন মহিলা এবং মেয়ে ধরে আনা হয় ম্যানিলার সম্পদশালী জেলা এরমিটা থেকে। তারপরে একটি নির্বাচক বোর্ড বাছাই করে ২৫ জন সুন্দরী মেয়েকে। যাদের মধ্যে অনেকেরই বয়স বড়োজোর ১২ থেকে ১৪ বছর হবে। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল বেভিউ তে।
ওই সাক্ষ্য অনুযায়ী তালিকাভুক্ত জাপানি বাহিনীর অফিসাররা ধর্ষণ করে তাদের। যখন তারা শেষ করে, তারপরে কেটে ফেলে মহিলাদের স্তনবৃন্ত। এই সমস্ত পৈশাচিক আনন্দে লিপ্ত হয় ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীরা। এভাবেই ম্যানিলাতে লোমহর্ষক পাপাচারে ইতিহাসে এক নোংরা অধ্যায়ের রচনা করেছিলো ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীরা।

বাতানের মৃত্যু পদযাত্রা

১৯৪২ সালের ৯ই এপ্রিল ফিলিপাইনের বাতান উপদ্বীপে হেরে গিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী ফিলিপাইন। আর এই হারের ফলস্বরূপ ফিলিপিনো ও আমেরিকান যোদ্ধাদের সামনে আসে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। জাপানি বাহিনী প্রায় ৭৫,০০০ ফিলিপিনো ও আমেরিকান যোদ্ধাদের বাধ্য করায় আমৃত্যু পদযাত্রার। প্রায় ৬৫ মাইলের কষ্টসাধ্য মার্চ করতে হয় তাদের। এই যুদ্ধবন্দীদের প্রচণ্ড গরম আর জাপানি বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করে পাড়ি দিতে হয়েছিলো কারাগার শিবিরের উদ্দেশ্যে।

এই মার্চের সময় না খাইয়ে রাখা হয় যুদ্ধবন্দীদের। বেয়োনেটের গুঁতোয় জর্জরিত হয় তাদের ক্লান্ত দেহ। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান নেই তবে অনাহার এবং শাস্তির কবলে প্রাণ হারিয়েছিল হাজারো যুদ্ধবন্দী।

চিত্রঃ বাতান মার্চের বেঁচে যাওয়া প্রবীণ, Attribution: “22 Annual Bataan Death March- 001” by West Point – The U.S. Military Academy is licensed under CC BY 2.0

পারিত সুলং হত্যাকাণ্ড

মুয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান ৮ নম্বর ডিভিশন এবং ৪৫ নম্বর ইন্ডিয়ান ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলো ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। জাপানি বাহিনী সংখ্যায় খুব বেশি হওয়াতে পেরে উঠছিল না তারা। দুই দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধে খাবার আর গোলাবারুদ কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলো মিত্র বাহিনীরা। প্রায় ৩০০ জন মিত্রবাহিনীর যোদ্ধাদের আটক করে জাপানি বাহিনীরা।
তারপরে চলতে থাকে অমানবিক অত্যাচার। আহত যুদ্ধবন্দীদের উপর চলে লাথি, রাইফেলের আঘাত, শরীর ভিজানো হয় পেট্রোল দিয়ে। তারপর জ্বালানো হয় আগুণ। বেঁচে যাওয়া যুদ্ধবন্দী রাসেল ব্রেন্ডোন এর ভাষ্যমতে জ্বলন্ত শরীরের উপর ট্রাক দিয়ে চাপা দেয়া হয়।

সুক চিং

সিঙ্গাপুরে ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ থেকে শুরু করে মার্চের ৪ তারিখ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনাকে কি শুধু হত্যাকাণ্ড নাকি গণহত্যা বলা হবে তা নিয়ে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কারন ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনী দ্বারা হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা নিয়ে রয়েছে দ্বিমত। সরকারি জাপানি ভাষ্যমতে সংখ্যা ছিলো ৫,০০০ যেখানে বেসরকারী হিসাব মতে এই সংখ্যা চিন্তা করা হয় ৫০,০০০ হাজারের বেশি। সংখ্যা নিয়ে সংশয়য়ের কারন বেশির ভাগ হত্যাযজ্ঞ হয়েছিলো সমুদ্র সৈকতের পাশে যেখানে সম্ভাবনা আছে সমুদ্রের ঢেউয়ে মৃত দেহ হারিয়ে যাওয়ার ।

চিত্রঃ সুক চিং সেন্টার সাইট , Attribution: “File:Sook Ching Centre site.JPG” by Terence Ong is licensed under CC BY 2.5

এই গণহত্যা কিংবা হত্যাকাণ্ডকে বলা হয় সুক চিং। এটি একটি চীনদেশীয় বাক্যাংশ। এই বাক্যাংশের মানে হচ্ছে পরিষ্কারের মাধ্যমে শুদ্ধ। ইংরেজিতে “Purge through cleansing”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইম্পেরিয়াল জাপানি বাহিনীরা সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী চীনদেশীয় জাতিগোষ্ঠীর উপর নজরদারি শুরু করে। তারা খুঁজা শুরু করে কোন এন্টি-জাপানিজ জনগণ আছে কি না এই জাতিগোষ্ঠীর মাঝে। চালায় স্ক্রিনিং।
১৮-৫০ বছরের পুরুষদের মাঝ থেকে বের করার চেষ্টা করা হয় এন্টি-জাপানিজ চীনাদের। সবচেয়ে কষ্টকর ব্যাপারটি হচ্ছে এই যে চীনা লোকজনদের মধ্যে অনেকেই জানতই না তাদের সাথে কি হতে যাচ্ছিলো। তাই তারা স্বেচ্ছায় স্ক্রিনিং এ যোগদান করতো।

এস এস শিনইয়ো জাহাজে নৃশংসতা

যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে ম্যানিলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো জাপানি কার্গো ষ্টীমার এস এস শিনইয়ো মারু। এই জাহাজকে নরকের জাহাজও বলা হতো জাহাজের ভিতর চলা জাপানিদের করা টর্চারের কারনে। সময়টি তখন ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বরের ৭। জাহাজ ভর্তি আছে প্রায় সাড়ে সাতশ আমেরিকান যুদ্ধবন্দী।

জাহাজটির অবস্থা সম্পর্কে জেনে যায় একটি আমেরিকান সাবমেরিন। চারটি টর্পেডো নিক্ষেপ করার পর একটির আঘাতে ডুবে যায় শিনইয়ো মারু। ডুবা শুরুর দিকে জাপানি কমান্ডারের নির্দেশ আসে সব যুদ্ধবন্দীদের হত্যার ব্যাপারে। ৬৮৮ জন মারা যায় ডুবার সময়েই আর বাঁচতে পেরেছিলো মাত্র ৮২ জন। এর মধ্যে ৪৭ জন জাপানি গার্ডও মারা যায়।

মানুষ ক্ষমতা পাওয়ার পর কতটা হিংস্র পশু হতে পারে তা হয়তো এই বর্বরতা থেকে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যায়। হিরোশিমা, নাগাসাকি দেখেছিলো এই পরিণতি। হয়তো ওই অঞ্চলের নাগরিকরদের যুদ্ধের সাথে লেনাদেনা তেমন ছিলই না। হয়তো তারাও যুদ্ধ পছন্দ করতো না। তবে পরিণতি ভোগ তাদেরকেই করতে হয়েছিলো।

আরেকটি কথা বলে রাখা ভালো। এই পরিসংখ্যান নিয়ে মতবাদ রয়েছে। হতে পারে কম বেশি। তবে উইনস্টন চার্চিল সাহেবের একটি উক্তি তো আছেই,

হিস্ট্রি ইজ রিটেন বাই দ্যা ভিক্টরস

 

জাপানের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে পড়তে পারেন…

জাপানিদের সুস্থ থাকার রহস্য

 

তথ্য সূত্রঃ

Featured image credit: https://pixabay.com/images/id-2546068/

Leave a Reply